রাজ্যের কাজ সেরে আড্ডায় জমেছেন দশানন মন্দোদরী ও সীতা। মহাবীর ও আছেন। তবে তিনি কেমন যেন বিমর্ষ। সীতা ওঁকে আগে থেকেই চেনেন। ভালো সম্পর্ক। তাই তিনিই জিজ্ঞেস করলেন বিষাদের কারণ। মহাবীর যা বললেন তার অর্থ রামচন্দ্র তাঁকে সীতা সম্পর্কে খোঁজ নিতে বলেছেন। পতিব্রতা নারী কিভাবে পতিকে ছেড়ে এই বিজন বনে পরপুরুষের সান্নিধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ? তিনি তো অযোধ্যাময় এই বার্তাই রটিয়েছেন, যে দশানন সীতাকে অপহরণ করেছেন। মন্দোদরী হতবাক। সে আবার কি ! দশানন অপহরণ করতে যাবেন কেন ? আর যদি সে ইচ্ছেই থাকত তবে তো তিনি অন্য কাউকে দিয়েই কাজটা করাতে পারতেন ! নিজে একাজ করতে যাবেন কেন ? বিশেষ শিবব্রত উদযাপনের সময়ে এরকম বালখিল্য অনাচার কি তাঁর পক্ষে সম্ভব ? যত অন্যায় অপবাদ ! আর এধরণের স্বভাব তো রাজার নয় ! সীতা অধোবদন। বললেন - ভুল তো বিদেহ রাজেরই হয়েছে। আমরাও পুরুষ নারী অনুক্রমে শিবের পূজারী। সেই মত বংশানুক্রমিক প্রথা ছিল যে, যিনি হরধনুতে গুণ পরাতে পারবেন তিনিই বৃত হবেন পতিত্বে। সেখানে রামচন্দ্র গিয়ে সে ধনু গায়ের জোরে ভেঙেই ফেললেন ! কথা তো ভেঙে ফেলবার ছিলনা। পিতা সম্মতি দিলেন বিবাহের। আসলে আমরাও যে ভূখণ্ডের আদি অধিবাসী, এবং আমাদেরও ধর্ম মতে শিব মহাকাল আমাদের আরাধ্য, এইটি আত্মসাৎ করার জন্যেই রামচন্দ্রের মিথিলায় আগমন। এঁরা বিষ্ণু বলে এক দেবতার পূজা করেন। শিবকে তো মানেনই না, উপরন্তু তাঁকে দুর্নাম করেন। তিনি শ্মশানবাসী। তিনি নেশাতুর। জীবনধারণে তাঁর কোনও রুটিন নেই। এই বাউন্ডুলে নেশাচ্ছন্ন ইমেজটা তাঁর দেবত্বকে যথেষ্ট খর্ব করেছে। অথচ মহাকাল সমাহিত আত্মমগ্ন যোগী। তিনি নেশাচ্ছন্ন নন। শ্মশানে বাস অর্থে তিনি জাগতিক ভোগ সুখের কারবারী নন। সুতরাং যে কেউ তাঁকে পূজা করবে সে সম্পূর্ণ নির্বাসনা হয়ে তাঁর পূজা করবে। তিনি ইচ্ছেপুরন করবার জন্যে বসে নেই। উল্টে ওরা বোঝালেন বিষ্ণু জগতের পালনকর্তা। তাঁর পূজা করলে জাগতিক সুখ সমৃদ্ধির ইচ্ছে পূর্ণ হবে। আর শিব হলেন ধ্বংসের দেবতা। তিনি তোমার সংসারের প্রলয় করে ছাড়বেন। ঠিক যেমন দশাননের নাশ হতে চলেছে। উত্তরাপথে রামচন্দ্র ভালোই সমর্থক জোগাড় করে ফেলেছেন।
মন্দোদরী এমন কথা কখনও শোনেননি। বললেন। সখী থেমোনা। আরও বলো। আমার কৌতূহল হচ্ছে।
অতঃপর...।