অনূদিত অণুগল্প
ইচ্ছে হলো পড়াই 😊
তিনটি অণুগল্প দিলাম। জাপানের সাহিত্য ও শিল্প খুব সূক্ষ্ম এবং মেধা ও মননের ওপরে দাবি রাখে। নিছক বিনোদনের জন্য সৃষ্টি বোধহয় এঁরা আর করেন না। প্রথম গল্পটি তার প্রমাণ। অস্তিত্বের ভিত্তি যেখানে একটি সুইচ। দেওয়াল ছাড়া বাকি সব কিছু যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ইয়াসাকু কিতানো
দেওয়ালের গায়ে একটা সুইচের ওপরে হাত রেখে আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করল – এটা কিসের সুইচ ? তার হাত সুইচটা টিপতেই সব কিছু অদৃশ্য হয়ে গেল । আর কোনো উপায় না দেখে আমি দেওয়ালটাকে আঁকড়ে ধরে সুইচটার দিকে এগোলাম। সুইচ টিপতেই আমার স্ত্রী ও সমস্ত দুনিয়া আবার দৃশ্যমান হয়ে ফিরে আসল । আঃ ! শুধু দেওয়ালটাই যেমনকার তেমন রইল !
দ্বিতীয় গল্পের লেখক বিশ্ববরেণ্য। পড়ে দেখুন কেমন লাগে।
অস্কার ওয়াইল্ড
শিল্পী
“মুহূর্তের সুখ” শিল্পটিকে সাজিয়ে তুলতে সেদিন সন্ধ্যেয় শিল্পীর মনে দারুণ বাসনা জাগলো। তিনি তাই ব্রোঞ্জ খুঁজতে বের হলেন। কারণ ব্রোঞ্জ ছাড়া তিনি কিছু নির্মাণের চিন্তা করতে পারেন না।
কিন্তু দুনিয়ার সমস্ত ব্রোঞ্জ নিঃশেষ। একমাত্র “অনন্তকালের দুঃখ” প্রতিকৃতিতে ব্রোঞ্জ আছে।
তিনিই এই প্রতিকৃতিটি সৃষ্টি করে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়জনের কবরের প্রস্তরে স্থাপন করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি বার্তা দেওয়া যে, প্রিয় মানুষটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা অনিঃশেষ এবং তাঁর বিহনে দুঃখও অনিঃশেষ। সারা দুনিয়ায় এইটিতে ছাড়া আর কোত্থাও ব্রোঞ্জ নেই।
তিনি ভাস্কর্যটি তুলে নিলেন ও জ্বলন্ত চুল্লিতে দিয়ে দিলেন। আর সেই গলানো ধাতু থেকে তিনি অনন্তকালীন দুঃখের পরিবর্তে মুহূর্তের সুখ সৃষ্টি করলেন।
তৃতীয় গল্পটি সমকালীন। কী অসামান্য আঁচড়ে একটি মাত্র শব্দ ‘সত্যিই’ যেখানে প্রাণের চেয়েও মূল্যবান হয়ে ওঠে। এ গল্পটি আমাকে চমকে দিয়েছে।
এটগার কেরেট
হাঁপানির টান উঠলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তখন কথা বলা মুশকিল। ফুসফুসে যতটুকু বাতাস থাকে বুঝে খরচ করতে হয়। বড়ো জোর তিন থেকে ছ’টি শব্দ বলা চলে। অর্থবহ শব্দ। মগজ ঘেঁটে এমন শব্দ তুলে আনতে হয় যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বড্ড দামী শব্দ। সাধারণ সুস্থ লোকে যেভাবে শব্দ খরচ করে তেমনটা নয়। মাথায় জমা হওয়া আবর্জনা উগরে দেওয়ার মতো করে এরা বকে যায়। এরকম দমবন্ধ অবস্থায় কেউ যদি বলে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বা ‘আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি’ তবে দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে। একটা শব্দের পার্থক্য। সেই শব্দটা মূল্যবান কারণ সেটা ‘বসো’, ‘ভেন্টোলিন’ কিংবা ‘এম্বুলেন্স’ হতে পারত।
ইচ্ছে হলো পড়াই 😊
তিনটি অণুগল্প দিলাম। জাপানের সাহিত্য ও শিল্প খুব সূক্ষ্ম এবং মেধা ও মননের ওপরে দাবি রাখে। নিছক বিনোদনের জন্য সৃষ্টি বোধহয় এঁরা আর করেন না। প্রথম গল্পটি তার প্রমাণ। অস্তিত্বের ভিত্তি যেখানে একটি সুইচ। দেওয়াল ছাড়া বাকি সব কিছু যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ইয়াসাকু কিতানো
দেওয়ালের গায়ে একটা সুইচের ওপরে হাত রেখে আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করল – এটা কিসের সুইচ ? তার হাত সুইচটা টিপতেই সব কিছু অদৃশ্য হয়ে গেল । আর কোনো উপায় না দেখে আমি দেওয়ালটাকে আঁকড়ে ধরে সুইচটার দিকে এগোলাম। সুইচ টিপতেই আমার স্ত্রী ও সমস্ত দুনিয়া আবার দৃশ্যমান হয়ে ফিরে আসল । আঃ ! শুধু দেওয়ালটাই যেমনকার তেমন রইল !
দ্বিতীয় গল্পের লেখক বিশ্ববরেণ্য। পড়ে দেখুন কেমন লাগে।
অস্কার ওয়াইল্ড
শিল্পী
“মুহূর্তের সুখ” শিল্পটিকে সাজিয়ে তুলতে সেদিন সন্ধ্যেয় শিল্পীর মনে দারুণ বাসনা জাগলো। তিনি তাই ব্রোঞ্জ খুঁজতে বের হলেন। কারণ ব্রোঞ্জ ছাড়া তিনি কিছু নির্মাণের চিন্তা করতে পারেন না।
কিন্তু দুনিয়ার সমস্ত ব্রোঞ্জ নিঃশেষ। একমাত্র “অনন্তকালের দুঃখ” প্রতিকৃতিতে ব্রোঞ্জ আছে।
তিনিই এই প্রতিকৃতিটি সৃষ্টি করে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়জনের কবরের প্রস্তরে স্থাপন করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি বার্তা দেওয়া যে, প্রিয় মানুষটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা অনিঃশেষ এবং তাঁর বিহনে দুঃখও অনিঃশেষ। সারা দুনিয়ায় এইটিতে ছাড়া আর কোত্থাও ব্রোঞ্জ নেই।
তিনি ভাস্কর্যটি তুলে নিলেন ও জ্বলন্ত চুল্লিতে দিয়ে দিলেন। আর সেই গলানো ধাতু থেকে তিনি অনন্তকালীন দুঃখের পরিবর্তে মুহূর্তের সুখ সৃষ্টি করলেন।
তৃতীয় গল্পটি সমকালীন। কী অসামান্য আঁচড়ে একটি মাত্র শব্দ ‘সত্যিই’ যেখানে প্রাণের চেয়েও মূল্যবান হয়ে ওঠে। এ গল্পটি আমাকে চমকে দিয়েছে।
এটগার কেরেট
হাঁপানির টান উঠলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তখন কথা বলা মুশকিল। ফুসফুসে যতটুকু বাতাস থাকে বুঝে খরচ করতে হয়। বড়ো জোর তিন থেকে ছ’টি শব্দ বলা চলে। অর্থবহ শব্দ। মগজ ঘেঁটে এমন শব্দ তুলে আনতে হয় যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বড্ড দামী শব্দ। সাধারণ সুস্থ লোকে যেভাবে শব্দ খরচ করে তেমনটা নয়। মাথায় জমা হওয়া আবর্জনা উগরে দেওয়ার মতো করে এরা বকে যায়। এরকম দমবন্ধ অবস্থায় কেউ যদি বলে ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বা ‘আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি’ তবে দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে। একটা শব্দের পার্থক্য। সেই শব্দটা মূল্যবান কারণ সেটা ‘বসো’, ‘ভেন্টোলিন’ কিংবা ‘এম্বুলেন্স’ হতে পারত।

No comments:
Post a Comment