ইদানীং শশী ডাক্তার গাঁয়ের বাইরে একটা আলাদা ডিসপেনসারি করিয়াছে । সেখানে চিকিৎসার জন্যে সে পূর্বের মতই নিজে কলিকাতায় আসিয়া প্রয়োজন মত ঔষধ ক্রয় করিয়া লইয়া যায় । তবে যাদব পণ্ডিতের হাসপাতালে আধুনিক শিক্ষিত ডাক্তার থাকিবার ফলে গরীব গুর্বো ছাড়া তাহার কাছে রোগী বড় একটা হয়না । কিন্তু শশী মান্য মানুষ । আশেপাশের দু দশটা গাঁয়ে তাহার সুনাম এখন অটুট । প্রাচীন যে কজন এখনও বাঁচিয়া তাহারা শশীর নিকটেই চিকিৎসার কারনে আসেন । শশী কলিকাতায় যাইলে রোগীদের সাবধানে থাকিতে বলিয়া যান । দেরী হইতে পারে কোনও কারনে । তখন মুস্কিল হইবে ।
এবার কলিকাতায় আসিয়া শিয়ালদহ স্টেশনের সন্নিকটে হ্যারিসন রোড স্থিত বেঙ্গল বোর্ডিং এ একখানি ঘর সে ভাড়া লইল । কিছুদিন থাকিয়া যাওয়ার ইচ্ছা । সংসারে তাহার জন্য অপেক্ষায় থাকে এমন কেহ নাই । মাঝে মাঝে তাহার মনে হয় কুসুম অনর্থক তাহাকে স্বার্থপর প্রতিপন্ন করিয়াছে । কই ? সে তো সুখেই স্বামী লইয়া বাপের বাড়িতে জমিয়া বসিয়াছে । শশীই বরং একা । ইহজগতে তাহার আর কেহ নাই ।
আজ সকালে উল্টোদিকের মিষ্টান্ন ভাণ্ডার হইতে হিঙের কচুরী আনিয়া প্রাতরাশ সম্পন্ন করিয়া সে বই পাড়ায় যাইবে বলিয়া বাহির হইল । পথে নামিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে লক্ষ্য করিল সম্মুখে একটি পরিচিত সৌম্যকান্তি যুবক যেন হাঁটিতেছে ! আগাইয়া গিয়া তাহাকে ধরিয়া ফেলিতেই দেখিল , হেরম্ব । দুজনেই একে অপরকে পাইয়া খুব আনন্দিত হইল । চল ওই চায়ের দোকানটায় বসি । তারপর কি খবর বল ? শশী বলিল । হেরম্ব মাথা নীচু করিয়া রইল । দোকানের বেঞ্চিতে বসিয়া পুনর্বার তাগাদা পাইয়া সে চোখ দুটি তুলিল । এখনও তাহার চোখ দুটি সেইরকম মায়াময় । বলিল মরে বেঁচে আছি শশীদা । শশী হাসিল । অর্থপূর্ণ হাসি । সে তোমার নিজের দোষে । আরও ভালো মেয়ে পাবে বলেই কি সুপ্রিয়ার আত্মসমর্পণ তুচ্ছ করেছিলে ? হেরম্ব বলিল না শশীদা । তুমি ভুল বুঝেছ । আমি নিজের মন চিনতে পারিনি । অভিভাবক হবার ঝোঁকে তাকে গ্রহন করিনি । কিন্তু তুমি কেন একটি বিয়ে করলেনা বলত ? শশী নিদারুন হাসিল । কি যে বল ? স্বয়ং স্রষ্টা তাঁর কলমের জোরে এক পরস্ত্রীর প্রতি প্রেমের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেলেন । সে কি সোজা বোঝা ? হেরম্ব ও বিষণ্ণ হাসিল । ঠিক কথা । স্রস্টার সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার কেউ যদি স্থির করে দিত তবে জানতে চাইতাম পরিণতি কী ভেবে রেখেছিলেন । এই যে আমি আর তুমি এমন ছন্নছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরছি সে নিশ্চয় উনি ভাবেননি ।
এবার কলিকাতায় আসিয়া শিয়ালদহ স্টেশনের সন্নিকটে হ্যারিসন রোড স্থিত বেঙ্গল বোর্ডিং এ একখানি ঘর সে ভাড়া লইল । কিছুদিন থাকিয়া যাওয়ার ইচ্ছা । সংসারে তাহার জন্য অপেক্ষায় থাকে এমন কেহ নাই । মাঝে মাঝে তাহার মনে হয় কুসুম অনর্থক তাহাকে স্বার্থপর প্রতিপন্ন করিয়াছে । কই ? সে তো সুখেই স্বামী লইয়া বাপের বাড়িতে জমিয়া বসিয়াছে । শশীই বরং একা । ইহজগতে তাহার আর কেহ নাই ।
আজ সকালে উল্টোদিকের মিষ্টান্ন ভাণ্ডার হইতে হিঙের কচুরী আনিয়া প্রাতরাশ সম্পন্ন করিয়া সে বই পাড়ায় যাইবে বলিয়া বাহির হইল । পথে নামিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে লক্ষ্য করিল সম্মুখে একটি পরিচিত সৌম্যকান্তি যুবক যেন হাঁটিতেছে ! আগাইয়া গিয়া তাহাকে ধরিয়া ফেলিতেই দেখিল , হেরম্ব । দুজনেই একে অপরকে পাইয়া খুব আনন্দিত হইল । চল ওই চায়ের দোকানটায় বসি । তারপর কি খবর বল ? শশী বলিল । হেরম্ব মাথা নীচু করিয়া রইল । দোকানের বেঞ্চিতে বসিয়া পুনর্বার তাগাদা পাইয়া সে চোখ দুটি তুলিল । এখনও তাহার চোখ দুটি সেইরকম মায়াময় । বলিল মরে বেঁচে আছি শশীদা । শশী হাসিল । অর্থপূর্ণ হাসি । সে তোমার নিজের দোষে । আরও ভালো মেয়ে পাবে বলেই কি সুপ্রিয়ার আত্মসমর্পণ তুচ্ছ করেছিলে ? হেরম্ব বলিল না শশীদা । তুমি ভুল বুঝেছ । আমি নিজের মন চিনতে পারিনি । অভিভাবক হবার ঝোঁকে তাকে গ্রহন করিনি । কিন্তু তুমি কেন একটি বিয়ে করলেনা বলত ? শশী নিদারুন হাসিল । কি যে বল ? স্বয়ং স্রষ্টা তাঁর কলমের জোরে এক পরস্ত্রীর প্রতি প্রেমের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেলেন । সে কি সোজা বোঝা ? হেরম্ব ও বিষণ্ণ হাসিল । ঠিক কথা । স্রস্টার সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার কেউ যদি স্থির করে দিত তবে জানতে চাইতাম পরিণতি কী ভেবে রেখেছিলেন । এই যে আমি আর তুমি এমন ছন্নছাড়া হয়ে পথে পথে ঘুরছি সে নিশ্চয় উনি ভাবেননি ।
Nariye dile
ReplyDelete😊😊
Delete