মাতৃকা

সেদিন বাজার থেকে ফিরে বিনয় রাই কে খুঁজে পেলেন না l  কোথায় যে যায় থেকে থেকে l  অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে নিজেই ডাইনিং টেবিলে বসে এক গেলাস জল নিয়ে খেলেন l  অবসরের পর যেন চট্ করে বুড়ো হয়ে গেছেন l  দৌড়াদৌড়ি করে কিছু আর করতে পারেন না l  একটু পরে শোনা গেল রাইয়ের গলা l  মুখ মুছতে মুছতে ঢুকে এলেন l  বিনয় কে দেখে বললেন, কখন এলে ? খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গেল তো ? বিনয় হাসলেন l  তোমার অনেক কাজ, তাই বুঝতে পারোনা l  আমি ঘন্টা দুয়েক ছিলাম না l  তোমার কদ্দুর ? রাই বললেন, মোটামুটি শেষ l একদম ছোটটা খুব নিরবিরে l  মাথা তুলতেই চায়না l  কত করে আকাশ দেখিয়ে পাখি দেখিয়ে তবে খাওয়ালাম l  বিনয় প্রশ্রয়ের হাসি হাসলেন l  বেশ করেছ l  এখন বলত জলখাবার টা রাখা ছিল খেয়েছ কি ? রাই চোখ বড় বড় করে তাকালেন l  যাহ্, ভুলে গেছি l  আর এতগুলোকে সামলান কি আর মুখের কথা ? মাথার ঠিক থাকে কারো ? তুমিই বল l  বিনয় হাসলেন আবার l  না না তুমিই বলো l  দীর্ঘশ্বাস টা ঠেলে বেরোল বুক থেকে l  রাই ডাকলেন, চল তো একবার দেখবে ছোটটা কে l  চল যাই l  দুজনে উঠে এলেন দোতলার অপরিসর বারান্দায় l  সেখানে কতগুলি ফুল গাছের টব l  মাঝে একটি টবে সদ্য জন্মানো জুঁই চারা l  রাই ছুটটে গিয়ে আলতো হাতে চারাটা কে টব সমেত তুলে গ্রিলের কাছে নিয়ে এলেন l  বললেন, নে নে আলো খা l  যত পারিস খা l
নীচে পাশের বাড়ির ঝি বাসনের পাঁজা নিয়ে বসেছিল l  বলে উঠল, ওই রে পাগলের কাণ্ড দেখ, গাছ কে আলো খাওয়াচ্ছে l 

2 comments: