সীতা ও মন্দোদরী, দুই সখী মহানন্দে দিন কাটাচ্ছেন অশোক কাননে। চিরদিনই উদ্ভিদ তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই সীতা নাম না জানা সব লতাগুল্ম বৃক্ষরাজি ও ফুলফলের জগতে মগ্ন হয়ে আছেন। বেশ ক'টি সিংহলী সুন্দরী তাঁকে দেখাশুনো করে। এদের রাম ও লক্ষণ চেরী সম্বোধন করেন। চেরী হোল চের শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গ। দ্রাবিড় সভ্যতার নয়নতারা, সিংহলকে আর্য রাজারা চের রাজ্য নামে ডাকে। চের অর্থ রাক্ষস, পিশাচ। সীতার এদের সম্পর্কে কোনও বিরূপ মনোবৃত্তিই নেই। তিনি নিজে অনার্য রাজকন্যা। বিদেহ তখন মগধ বা বগধ রাজ্যের মধ্যে পড়ে।
এরকম করে যখন দিন কাটছে তখন রাজা দশানন গুপ্ত মন্ত্রণালয়ে মিলিত হয়েছেন বাকি দুই ভ্রাতার সঙ্গে। দ্বিতীয় কুম্ভকর্ণ মহাযোগী। তিনি বৎসরের ছ মাস সময়ে সমাহিত থাকেন। সমাধি থেকে বুত্থিত হলে, বাকি ছ মাস নগরীর আত্মিক জ্ঞানলোভী মানুষদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আলোচনায় অতিবাহিত করেন। এসময়ে অশোক কাননের বিভিন্ন স্বাদিষ্ঠ ফলমূল খান তিনি। তাঁর মত জ্ঞানী ধীর ও স্থির ব্যক্তি এরাজ্যে আর নেই। তৃতীয় বিভীষণ। কূটনৈতিক বুদ্ধিতে অগ্রজদের থেকে অনেক এগিয়ে। রাজার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা। যেন তেন প্রকারেন সিংহলকে সর্বরকমে বিপদমুক্ত রাখার দায়িত্ব যেন তাঁর। মোটামুটি এক্সটারনাল এফেয়ারস মানে বিদেশ সংক্রান্ত প্রতিরক্ষার বিষয়টি তাঁর হেফাজতে। দশানন এরকম কুটিল চিন্তাভাবনা করতে ভালোবাসেননা।
আজ বিভীষণ এক মহা দুশ্চিন্তার সংবাদ এনেছেন। রাজা রাম নাকি সিংহলে প্রেরন করেছেন তাঁর বিশ্বস্ত, তামিল বিজ্ঞানী মহাবীর হনুমানকে। সে এসে দেখে যাবে সীতা কেমন ভাবে বন্দিনী জীবন কাটাচ্ছেন। দশানন যারপরনাই বিস্মিত ! সেকি ! তিনি বন্দী হবেন কেন ? তিনি মাননীয়া অতিথি ! বিভীষণ জানালেন - এই রাজাগুলো কিচ্ছু বোঝেনা। রাজ পরিবারের আতিথ্য কি বস্তু সে এরা কি করে জানবে? দশানন জিজ্ঞেস করলেন - সীতা কি স্বাধীন নন? তাঁর স্বামি কি নিজের স্ত্রীকে ক্রীতদাসী হিসেবে রেখেছেন ? বিভীষণ মাথা নাড়লেন। জানিনা। এরা তো দাসপ্রথাকে সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন। স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, রাজকর্মচারী, সেনাবাহিনী। এমনকি সদ্যপ্রাপ্ত বন্ধুদেরও দাস বানিয়ে নিচ্ছেন। দশানন হতবাক - কেমন করে ? বিভীষণ বিষণ্ণ হাসলেন। কেমন করে আবার ? দেখছেন না তামিলদের কেমন ক্রয় করে ফেলেছেন আগাম রাজ্যের লোভ দেখিয়ে ? ধরার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীরাও এখন ওদের দাস।
এরকম করে যখন দিন কাটছে তখন রাজা দশানন গুপ্ত মন্ত্রণালয়ে মিলিত হয়েছেন বাকি দুই ভ্রাতার সঙ্গে। দ্বিতীয় কুম্ভকর্ণ মহাযোগী। তিনি বৎসরের ছ মাস সময়ে সমাহিত থাকেন। সমাধি থেকে বুত্থিত হলে, বাকি ছ মাস নগরীর আত্মিক জ্ঞানলোভী মানুষদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আলোচনায় অতিবাহিত করেন। এসময়ে অশোক কাননের বিভিন্ন স্বাদিষ্ঠ ফলমূল খান তিনি। তাঁর মত জ্ঞানী ধীর ও স্থির ব্যক্তি এরাজ্যে আর নেই। তৃতীয় বিভীষণ। কূটনৈতিক বুদ্ধিতে অগ্রজদের থেকে অনেক এগিয়ে। রাজার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা। যেন তেন প্রকারেন সিংহলকে সর্বরকমে বিপদমুক্ত রাখার দায়িত্ব যেন তাঁর। মোটামুটি এক্সটারনাল এফেয়ারস মানে বিদেশ সংক্রান্ত প্রতিরক্ষার বিষয়টি তাঁর হেফাজতে। দশানন এরকম কুটিল চিন্তাভাবনা করতে ভালোবাসেননা।
আজ বিভীষণ এক মহা দুশ্চিন্তার সংবাদ এনেছেন। রাজা রাম নাকি সিংহলে প্রেরন করেছেন তাঁর বিশ্বস্ত, তামিল বিজ্ঞানী মহাবীর হনুমানকে। সে এসে দেখে যাবে সীতা কেমন ভাবে বন্দিনী জীবন কাটাচ্ছেন। দশানন যারপরনাই বিস্মিত ! সেকি ! তিনি বন্দী হবেন কেন ? তিনি মাননীয়া অতিথি ! বিভীষণ জানালেন - এই রাজাগুলো কিচ্ছু বোঝেনা। রাজ পরিবারের আতিথ্য কি বস্তু সে এরা কি করে জানবে? দশানন জিজ্ঞেস করলেন - সীতা কি স্বাধীন নন? তাঁর স্বামি কি নিজের স্ত্রীকে ক্রীতদাসী হিসেবে রেখেছেন ? বিভীষণ মাথা নাড়লেন। জানিনা। এরা তো দাসপ্রথাকে সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন। স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, রাজকর্মচারী, সেনাবাহিনী। এমনকি সদ্যপ্রাপ্ত বন্ধুদেরও দাস বানিয়ে নিচ্ছেন। দশানন হতবাক - কেমন করে ? বিভীষণ বিষণ্ণ হাসলেন। কেমন করে আবার ? দেখছেন না তামিলদের কেমন ক্রয় করে ফেলেছেন আগাম রাজ্যের লোভ দেখিয়ে ? ধরার শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীরাও এখন ওদের দাস।
No comments:
Post a Comment