অশোক কানন সিংহল রাজ্যের সবচেয়ে সুন্দর এলাকা। রাজা দেশ বিদেশ থেকে নানা ফুল ফল লতা গুল্ম সব এনে রোপন করিয়েছেন। সুশোভিত কানন সুগন্ধে আমোদিত সারাক্ষণ। আপাতত জানকী এই বাগানে অবসর জীবন যাপন করছেন। রানি মন্দোদরী আজ এসেছেন বাগানের শিবদেউলে পুজা দিতে। স্বামী দশানন শিবের ভক্ত। আজ একমাস তিনি সন্ন্যাসী সেজে পথে পথে ভিক্ষা করেছেন। নিজ রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অরন্যে ঘেরা পার্বতভুমিতেও গিয়েছেন। প্রজারা তাকে চিনে ফেললে অযাচিত ভিক্ষা দিয়ে ফ্যালে । সন্ন্যসীর ঈপ্সিত নয় তা। এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে তিনি অরন্যে এক বনচারীর কুটিরে গিয়ে পড়েন । গিয়ে দেখেন সেই অসভ্য রাজা এখন বনবাসে। এ তারই কুটীর । তখন জানকী একা। দশাননকে দেখে স্মিত হাসিতে মুখ ভরিয়ে ফেললেন। পরাক্রমশালী রাজা হলে কি হয়, দশানন যে জগত বিখ্যাত! তার ওপর শিব ভক্ত। তার ও যে বাপের বাড়ি শিবের ভক্ত। দশানন কথায় কথায় জানতে চাইলেন এই অসভ্য রাজার খপ্পরে কি করে পড়লেন জানকী ? উত্তরে জানকী বললেন সবই কপাল। নয়ত বিদেহ রাজ কেনই বা হরধনুতে জ্যা রোপণ করলেই জানকীর পতি হতে পারা যাবে, এইকথা ঘোষনা করবেন! ফলে ভূমিকন্যা হয়েও তাকে রামের ঘরণী হতে হল। বহুদিন পর দশাননের মত সহমর্মি কাউকে পেয়ে জানকীর আনন্দ ধরেনা। সেকথা বুঝতে পেরে রাজা প্রস্তাব দিলেন - চলো ভগ্নী আমার প্রাসাদে চলো। এই অবসরে রাজা জানালেন কিভাবে লক্ষণ তার ছোট বোনের সম্মানহানির চেষ্টা করেছিল। তবে সে যুদ্ধ বিশারদ। তাই পেরে ওঠেনি। এই কথা শুনে জানকী বললেন তবে চলুন যাই আপনার সাথে। শিব পুজা উদযাপন ও হবে, আবার আত্মীয় সাথে কিছুদিন অতিবাহিত ও হবে।
গভীর অরন্যে দিক ভুল যাতে না হয় তাই প্লেন থেকে সীতা নিজের ছোটখাট গহনাপাতি ফেলতে ফেলতে এসেছেন। রাম তো তার ভাষা পড়তেই পারেন্ না। চিঠি লিখে লাভ নেই। লক্ষণকে আর বিশ্বাস করা চলেনা। রাজা দেখলেন সীতা গহনা ফেলছেন। তাই দেখে দশানন বললেন জানকী স্বর্ণ রাজ্যে চলেছ ভগিনী। এ গহনা তুমি আবার ফিরে পাবে। সীতা হাসলেন। অশোক কানন প্লেন থেকে দেখে সীতার মনে হল স্বর্গের নন্দন কাননও এর কাছে নিষ্প্রভ। দশানন লক্ষ করলেন জানকীর মুগ্ধভাব। বললেন - ভগিনী, আগামী চাঁদে শিবব্রত উদযাপন করব। তুমি কাননের লতা কুটিরে এ কদিন বাস করো। এর সৌন্দর্য উপভোগ করো। অশোক কাননে কোনো শোক কষ্ট অসুখ প্রবেশ করতে পারেনা। শিবের বর। আর যখন আমরা শিবের অনুগ্রহীত তখন এই কাননে আমরা সুরক্ষিত।
রানি মন্দোদরী জানকীর গলা জড়িয়ে ধরে বললেন - পিয় সহি, আমার স্বামী তোমার অগ্রজ। বলো আজ এই উৎসব দিনে তোমার কিভাবে প্রীতিবিধান করতে পারি? জানকী হাসলেন। আপাতত ওই তামিল মহাবীর, হনুমানকে এখানে ঢুকতে দেওয়া চলবেনা। সে ব্যাটা কিস্যু বোঝেনা , খামোখা মহা উত্পাত শুরু করবে । রানী হাসলেন । তাহলে রাম খবর পাবেন কিকরে ? সীতা মুখ নামিয়ে বললেন - উনি একটু বুঝুন যে অবাধ্য সহোদরকে এমন অন্যায়ে সায় দিতে নেই ।
রানি মন্দোদরী জানকীর গলা জড়িয়ে ধরে বললেন - পিয় সহি, আমার স্বামী তোমার অগ্রজ। বলো আজ এই উৎসব দিনে তোমার কিভাবে প্রীতিবিধান করতে পারি? জানকী হাসলেন। আপাতত ওই তামিল মহাবীর, হনুমানকে এখানে ঢুকতে দেওয়া চলবেনা। সে ব্যাটা কিস্যু বোঝেনা , খামোখা মহা উত্পাত শুরু করবে । রানী হাসলেন । তাহলে রাম খবর পাবেন কিকরে ? সীতা মুখ নামিয়ে বললেন - উনি একটু বুঝুন যে অবাধ্য সহোদরকে এমন অন্যায়ে সায় দিতে নেই ।
No comments:
Post a Comment