অজো নিত্য



এই নতুন ফ্ল্যাট বাড়িটায় সদ্য এসেছে  অপুরা । বেশ বড় একটা জমিতে অনেকটা করে জায়গা ছেড়ে লম্বা লম্বা উঠেছে কটি বহুতল । আবাসনটি কলকাতা বলে পরিচয় দিলেও আদতে সুন্দরবন বোধ হয় ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে । অপুর বাবা হরিহর কাশীতে বিএইচইউতে ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক । মা সর্বজয়া আর অপু মানে শ্রীমান অপূর্ব কুমার রায় আপাতত এই ফ্ল্যাটের নতুন বাসিন্দা । সাত সকালে ইস্কুলের হলদে বাস এসে তাকে নিয়ে যায় । ইস্কুল শেষ হলে এক্সট্রা টুইশন , সাঁতার , ড্রয়িং ইত্যাদি সেরে বাড়ি ফিরিয়ে দেয় সেই হলদে বাস সন্ধ্যের মুখে । সারাটা দিন সর্বজয়া একা বিরল বাস করে । তার একলা দুপুর বই পড়ে গান শুনে কাটে । কখনও নির্জন দুপুরে দশতলার ব্যালকনি দিয়ে দূরে তাকিয়ে থাকে । কত সবুজ নীচটা ! কেমন ঝিলমিল পুকুর ! কোনও পুরনো বাড়ির দোতলার ছাদ । কে যেন শাড়ি মেলে দেয় । সবুজের ফাঁকে লাল টালির ছাদ । একটুকরো লকলকে লাউডগা । একটা ঝাঁকড়া মাথা কদম গাছ । ফুল ফোটার সময়ে নিশ্চয় গন্ধ বাতাসে ভেসে আসবে । ওই যে ছোট্ট ছেলেটা দুপুরের খর রোদে ঝাঁটার কাঠির তীর ধনুক নিয়ে গাছ তলায় ঘুরপাক খাচ্ছে । এইই ওর দিদি এসে দিল ঘা কতক বসিয়ে । এত দূর থেকে শব্দ শোনা যায়না । ছেলের কান্না বুঝতে পারা যায় । তাই শুনেই নিশ্চয় , মা হবে হয়ত , বাপরে , কি জোরে মেয়ের চুল ধরে নাড়া দিল ! আহা রে ! সর্বজয়ার কান্না পেয়ে গেল । ও ত ভাইকে রোদ থেকে সরাতেই শাসন করেছিলো । ঘরে ফিরে এসে দ্রুত মোবাইলে মেসেজ করল হরিহরকে । "এমাসে দুর্গার জন্য একটা বাসন্তী রঙের বেনারসী কিনবে । ওর কনভোকেশন আছে । পরবে ।" ।

দুপুরে টিচার্স রুমে সেই মেসেজ দেখে নির্বাক হয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকেন হরিহর । মেয়েটা সেই কবে ছেড়ে চলে গিয়েছে !! দিল্লি শহরে পড়তে গিয়ে একদল হায়নার হাতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । ব্যাধি । সামাজিক ব্যাধি । একটু ক্ষণ পর ফিরতি মেসেজে লিখলেন , " গোছগাছ সেরে রেখো । তোমাদের কাশীতে আনব এবার "।

No comments:

Post a Comment