অনুবাদ গল্পের পাতা

লিডিয়া ডেভিস এক বিখ্যাত নাম। ফ্ল্যাশ ফিকশানে তাঁর নাম সাহিত্যমহলে সুপরিচিত। তাঁর কয়েকটি গল্প অনুবাদ করা হলো।
শুনেছিলাম, শ্রদ্ধেয় বুদ্ধদেব বসু একবার নবনীতা দেব সেনকে বলেছিলেন, যখন অরিজিনাল লেখা বেরোবে না তখন অনুবাদ করতে হয়। মহাজনের উপদেশ মনে রেখে এখন এই কাজটা করছি আর কি।
ইঁদুর
আমাদের বাড়ির দেওয়ালে অনেক ইঁদুর। কিন্তু তারা আমাদের রান্নাঘরে আসেনা। আমরা খুশি যে তারা আমাদের প্রতিবেশীদের রান্নাঘরে ধাওয়া করে। রান্নাঘরে আমরা ইঁদুর কল রেখেছি যদিও। অবশ্য আমরা এতেও খুশি যে আমাদের রান্নাঘরে নিশ্চয় কোনো ব্যাপার আছে, তাই ওরা আসেনা। কিন্তু আমরা অন্যদের চেয়ে বেশিই অগোছালো। মেঝেতে খাবার পড়ে থাকে। রুটির টুকরো টেবিলে। আলমারির কোণে পা দিয়ে ঠেলে দেওয়া পেঁয়াজের খোসা। এতে আমার মনে হয়েছে ইঁদুরগুলো এত অগোছালো নোংরা রান্নাঘরে এসে খুবই মুশকিলে পড়ে। তার চেয়ে পরিষ্কার রান্নাঘরে তারা দিনের পর দিন ধীরে ধীরে খাবার খুঁজে নেয়। হয়তো তারা এখানেও আসে, তবে আমাদের রান্নাঘরে এত প্রচুর খাদ্যের মধ্যে তারা দিশেহারা হয়ে যায়। কী করবে ভেবে না পেয়ে ফিরে যায়।


ভ্রমণ
রাস্তার কাছে এসে রাগের চিৎকার, পথে দাঁড়িয়ে কথা না বলতে চাওয়া, পাইনের বনের নিস্তব্ধতা, পুরনো রেলের পুলের ওপরের নিস্তব্ধতা, জলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, শক্ত মাটিতে দাঁড়িয়ে তর্ক শেষ না করতে চাওয়া, নোংরার স্তুপের পাশে রেগে কেঁদে ওঠা, ঝোপের মধ্যে ফুঁপিয়ে ওঠা।
ভয়
প্রায় প্রত্যেকদিন সকালে আমাদের পাড়ার এক ভদ্রমহিলা ফ্যাকাসে মুখে দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর ওভারকোট পাগলের মত ফতফত করতে থাকে। “খুব দরকার” বলে তিনি চিৎকার করতেই থাকেন যতক্ষণ না কেউ এসে তাঁর হাত ধরে আর তিনি শান্ত হন। আমরা জানি, আসলে কিস্যু হয়নি। পুরোটাই ওনার বানানো। কিন্তু আমরা অনুভব করি, আমরা সকলেই কোনো না কোনো সময়ে ওনার মতোই করেছি এবং প্রত্যেক সময়েই আমাদের আত্মীয় বা বন্ধুদের কেউ এভাবেই হাতটা ধরে আমাদের শান্ত করে।

অদ্ভুত !
দেখো পরিস্থিতি কেমন দায়ী! যখন একা থাকি তখন আমি যদি কানে প্রচুর টিস্যু গুঁজে একটা স্কার্ফ দিয়ে মাথা কান মুড়ে রাখি যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় শব্দ কানে না আসে, তবে আমাকে কেন কেউ পাগল বলবে?

হারানো প্রাপ্তি নিরুদ্দেশ

আসলে কিছুই হারায় না। সব কিছুই এই পৃথিবীর কোনো না কোনো কোণে পড়ে থাকে। বেশির ভাগই তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র। শুধু দুটো বেশ বড়সড়। একটা কোট আর একটা কুকুর। ছোট্ট জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল একটা আংটি ও একটা বিশেষ বোতাম। তারা আমার কাছ থেকে হারিয়েছে হয়তো কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। তারা অন্য কোথাও আছে, অন্য কারোর কাছে নিশ্চয়। কিন্তু যদি অন্য কারোর কাছে না গিয়ে থাকে তবে আংটিটা নিজে হারায়নি। আর বোতামটাও। তারা আছেই। শুধু আমি সেইখানে নেই।



No comments:

Post a Comment