সেই কোন ভোরে উঠে দিন শুরু করেছি l এতটুকু বিশ্রাম নেই l প্রতীক থাকেনা বলে একা হাতে সব দেখতে হয় l এই সময়ে ক্লিনিক থেকে জরুরি ফোন l মাদাম যদি একটু আসতে পারেন প্লিস ! খুব বিপদ হয়েছে l নিস্পৃহ যে থাকতে পারিনা সেটা আমার ই স্বভাবের দোষ l বললাম সজল দা কি হল ? উত্তর এল sir এর শরীর খারাপ l বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে মাথা ঘুরে গেছে l এই গরম l হতেই পারে l জিজ্ঞেস করলাম patient কজন ? বলল সাত l ঘেমে গেলাম শুনে l আটটা নাগাদ ও যদি পৌঁছে যাই দশ থেকে সাড়ে দশটা বাজবে l তাড়াতাড়ি করে স্নানে চলে গেলাম l বাথরুম থেকেই শুনলাম বুবুনের ঠাকুমা বলছেন আজ যে বীথির (ওঁর বড় মেয়ে ) আসার কথা l শুচি কি রান্না হবে ? বললাম মা আমি বুবুন কে স্কুলে দিয়ে একটু ক্লিনিকে যাব l ফিরে এসে দেখছি l মা বললেন মায়া (রাঁধুনি ) আসবেনা l চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বললাম এসে সব ব্যবস্থা করছি l মার গম্ভীর গলা পেলাম l কি করে তুমি সব ফেলে নাচতে নাচতে সাত সকালে চললে দেশসেবা করতে, ভেবে পাইনা l সংসারের ঝক্কি আমি আর কেন পোহাব বাপু l ভাবছি বলি যে ঠিক নাচতে যাচ্ছি না, কিন্তু সময়াভাব l তত ক্ষণে বুবুন টানাটানি শুরু করে দিয়েছে l মাম দেরি হচ্ছে চল l স্কুটিতে তাড়াহুড়ো করে নিজের জলের বোতল নিতে ভুল করলাম l কিছু করার নেই l বুবুন কে স্কুলের গেটে নামিয়ে এলাম ক্লিনিকে l চেম্বারে ঢুকে বসে জীরোনোর উপায় নেই l সময় কম l বললাম patient পাঠান l সব একরকম হচ্ছিল, শেষে একটি মেয়ে এল l সাথে তার স্বামী l অবাক হয়ে দেখলাম লোকটি ওই সাত সকালে আকন্ঠ মদ খেয়ে এসেছে l মেয়েটি লাজুক হাসি মুখে সামলাতে চেষ্টা করছে l কিন্তু লোকটি তাকে কথা বলতেই দিচ্ছেনা l যতবার সে বলতে চাইছে তার অসুবিধে কোথায়, লোকটি ততবারই তাকে থামিয়ে নিজে কথা বলছে l মেয়েটির চোখে কেমন ভয়ের ছায়া l একবার ভাবলাম বলি patient দেখবোনা l সময় চলে যাচ্ছিল l তারপর মনে হল মেয়েটির সুরাহা হবেনা l দক্ষিণ দেশীয় l কথা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল l লোকটি ইংরিজি জানলেও মেয়েটি স্বচ্ছন্দ নয় l শেষমেষ লোকটিকে রুগীকে পরীক্ষা করব বলে ঘরের বাইরে পাঠালাম l মেয়েটির মুখ্য অসুবিধে তার এখনো বাচ্চা আসেনি l তাকে দেখতে দেখতেই প্রতীকের ফোন এল l শুচি তুমি এত সকালে চেম্বারে কেন ? দিদিরা আসছে l মা একা l একটা কাণ্ড জ্ঞান নেই ! অদ্ভুত !! আগে বাড়ি যাও l মা নিজে নিজে কিছু করতে গিয়ে কিছু হলে ? উহ কি মুস্কিল ! প্রতীকের গলাটা ফোন পেরিয়ে ঘরের মধ্যেও শোনা যাচ্ছিল l আমি বলতে চাইলাম চিন্তা কোর না l কিন্তু প্রতীক তখনও সমানে বলে চলেছে l মেয়েটি অবাক হয়ে আমাকে দেখছিল l খুব অস্বস্তি হচ্ছিল l আমি মাথা নিচু করে প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতেই প্রশ্ন টা ভেসে এল l husband ?
একটি বিকেল বেলার গল্প
চাটুজ্যেদের রোয়াকে আর হয়ত কিছুদিন পর থেকে বসা চলবেনা। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে বাড়িটা প্রমোটার কে দেওয়া হবে। এ খবরে আমাদের মন অতি বিষন্ন। বিশেষত টেনিদার। এখানে ও এখনও যেভাবে রাজা উজির মারে আর আমাদের গ্যাঁট কাটে সেটা অন্য কোথাও অসম্ভব। আর আমি তো মনে মনে স্থির করেই নিয়েছি একবার রক হাতছাড়া হলে আর টেনি মুকুজ্জের সাথে একেবারে no relation . ওর হাতে যা হেনস্থা হওয়ার আমিই বেশি হয়েছি। তবুও এতদিনের আড্ডাস্থল , মন কি মানে ! কাল বিকেলে সেই রকেই তো যা একখানা কান্ড হল কি বলব। সেই কথাটা বলতেই এই ঠাঠা পোড়া রোদ্দুরে আমি এলাম।
হলো কি , গতকাল টেনিদা যথারীতি বাড়ির নিচে থেকে প্যালা প্যালা are you dead ? বলে চীৎকার শুরু করল। মেজদার কানমলার ভয়ে দৌড়ে নেমে এসে বললাম একটু কি ভলিউম কন্ট্রোল হয়না ? কি বলছ তাড়াতাড়ি বল। আমি joint এর প্রিপারেসন নিচ্ছি। টেনিদা বিশ্রী ভাবে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে হেসে বলল এখন তো আয়। আগে পাড়ার মান সম্মান তারপর নয় পড়ার মান। কোনো উপায় নেই দেখে ওর সাথে রোয়াকে গিয়ে বসলাম।. দুজনে বসে গুলতানি শুরু করব ঠিক তখনি এক বয়স্ক অবাঙ্গালী লোক এসে রকে বসলেন। টেনিদা মুখ খিচিয়ে বলল - ভ্যালা জ্বালা। ভদ্রলোক কিন্তু ততক্ষণে হাসি হাসি মুখ নিয়ে কাছে চলে এসেছেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে কথাও শুরু করে দিলেন। টেনিদা ওর পক্ষে যতটা সম্ভব ফিসফিস করে বলল - এই এটা দালাল। প্রোমোটার এর। পাত্তা দিসনা। কথা শুরু হল।
ভদ্রলোক জানালেন ওঁর নাম রামরতন ঝুনঝুনওলা। উনি শুনেছেন এ বাড়িটা বিক্রি আছে তাই খোঁজ নিতে এসেছেন। বললেন - সুনেলম কি এ মাকান ঠো বিচবে তো ও বেপারে একটু কোথা করতাম। টেনিদা বলল - ভুল শুনেছেন। এ বাড়িটা ভুতের বাড়ি। খুব শিগগির এটা কর্পরেসান থেকে পুরোপুরি ভূতেদের বাসস্থান বলে ডিক্রি দেবে। কিনলে বেদম ঠকা হবে। ঝুনঝুনওলা বললেন - ই কোথা আপুনি বিশোয়াস কোরেন ? ভূত উত কুছু আছে না কি ভাজারি বাবু ? কর্পরেসান থিকে একটু ঝামেলা হচ্ছে তো সে হামি বুঝে নেবে। টেনিদা ওর নামের এরকম দুরবস্থায় বিপুল চটল। কিন্তু মুখে কিছু বলছেনা। ঠিক এই মোক্ষম সময়ে ওপরের বারান্দা থেকে চাটুজ্যে গিন্নী এক বালতি জল ফেলল। গরমে জলে ভিজতে মন্দ লাগলনা। আর এই ফাঁকে টেনিদার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হলো। ঝুনঝুনওলা কিন্তু খুব একটা কাবু হলেননা। বললেন - হামি পান্ডিত কে লিয়ে আসব। পূজা উজা দিতে হোবে। হাবান করাইতে হোবে। বাস। ঔর কি। ভদ্রলোক ফাইন ধুতি পরে আছেন। পা গুটিয়ে বাবু হয়ে গুছিয়ে বসলেন। যাবার কোনো নামই করছেন না। বেগতিক দেখে আমি বললাম রবিবার দেখে আসুন। আমি কাকাবাবুর সাথে কথা বলিয়ে দেব। আজ তো কেউ নেই। টেনিদা ওর কনুই দিয়ে এক গোত্তা মারল আমার পাজরে। খুব জোরে লাগলেও আমি পাত্তা না দিয়্রে ওকে বললাম - আরে বাবা এখনকার মত তো রেহাই পাই। এঁকে ভাগ দিতে হবে বলে টেনিদা আজ কিছু খাওয়ার ও নাম করছেনা। ভদ্রলোক গুনগুন করে ভজন গাইছেন। মনে হল খুব ধার্মিক গোছের।
হঠাত একটা লালবাতি ওয়ালা পুলিশের গাড়ি এসে রকের সামনে থামল। টেনিদার তো ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেছে। ও যে কিরকম সাহসী সে তো সব্বাই জানে। ঝুনঝুনওলা কিন্তু এক ভাবে বসে। চোখ বন্ধ করে গেয়ে চলেছেন। গাড়ির দরজা খুলে ততক্ষণে এক অফিসার , খুব স্মার্ট একেবারে ঝকঝকে যাকে বলে , সামনে এসে দাঁড়ালেন। বিশুদ্ধ হিন্দিতে বললেন বাবুজি ঘর চলিয়ে। বিনয়ের সাথে অনুযোগ করলেন যে কেন উনি এভাবে একা একা এসেছেন। তাও এতদুরে। আমরা তো অবাক। টেনিদা নাক টাক চুলকে বলতে চাইল যে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ভুমিকা নেই। আমরাও জানিনা যে উনি বাড়িটা কেন কিনতে চান। বিশেষ করে ওঁর ছেলে যখন এত বড় একজন পুলিশ অফিসার। আমি হাসি চাপলাম। পুলিশের যেন ঘর বাড়ি লাগেনা। অফিসার আরো বিনয়ের সঙ্গে আমাদের ধন্যবাদ জানালেন ওঁর বাবাকে বসিয়ে রাখার জন্যে। বললেন পিতাজি কি কারণে একটু মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ডাক্তার হাসপাতালে দিতে বলেছিলেন কিন্তু পিতাজিকে এ অবস্থায় চোখের বাইরে করতে পারবেননা।
টেনিদা শেষবারের মত বলতে চাইল - উনি যে বাড়িটা কিনবেন বলছিলেন ? অফিসার হেসে বললেন ওই তো ওঁর অসুবিধে। অসুখ। তারপর হাতজোড় করে বিদায় চাইলেন। ঝুনঝুনওলা কিন্তু খুব একটা রাজি ছিলেননা। সঙ্গের লোকেরা অনুনয় বিনয় করে নিয়ে গেলেন।
টেনিদা উদাস সুরে বলল - দেখ কি সুসন্তান। কেমন বুঝিয়ে নিয়ে গেলেন। আমি নিঃশাস ফেলে বললাম - যাক আর একজন প্রোমোটার কে সরানো গেল। তারপর দুজনে রোযাকটার গায়ে হাত বুলিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।
হলো কি , গতকাল টেনিদা যথারীতি বাড়ির নিচে থেকে প্যালা প্যালা are you dead ? বলে চীৎকার শুরু করল। মেজদার কানমলার ভয়ে দৌড়ে নেমে এসে বললাম একটু কি ভলিউম কন্ট্রোল হয়না ? কি বলছ তাড়াতাড়ি বল। আমি joint এর প্রিপারেসন নিচ্ছি। টেনিদা বিশ্রী ভাবে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে হেসে বলল এখন তো আয়। আগে পাড়ার মান সম্মান তারপর নয় পড়ার মান। কোনো উপায় নেই দেখে ওর সাথে রোয়াকে গিয়ে বসলাম।. দুজনে বসে গুলতানি শুরু করব ঠিক তখনি এক বয়স্ক অবাঙ্গালী লোক এসে রকে বসলেন। টেনিদা মুখ খিচিয়ে বলল - ভ্যালা জ্বালা। ভদ্রলোক কিন্তু ততক্ষণে হাসি হাসি মুখ নিয়ে কাছে চলে এসেছেন। আমাদের দিকে তাকিয়ে কথাও শুরু করে দিলেন। টেনিদা ওর পক্ষে যতটা সম্ভব ফিসফিস করে বলল - এই এটা দালাল। প্রোমোটার এর। পাত্তা দিসনা। কথা শুরু হল।
ভদ্রলোক জানালেন ওঁর নাম রামরতন ঝুনঝুনওলা। উনি শুনেছেন এ বাড়িটা বিক্রি আছে তাই খোঁজ নিতে এসেছেন। বললেন - সুনেলম কি এ মাকান ঠো বিচবে তো ও বেপারে একটু কোথা করতাম। টেনিদা বলল - ভুল শুনেছেন। এ বাড়িটা ভুতের বাড়ি। খুব শিগগির এটা কর্পরেসান থেকে পুরোপুরি ভূতেদের বাসস্থান বলে ডিক্রি দেবে। কিনলে বেদম ঠকা হবে। ঝুনঝুনওলা বললেন - ই কোথা আপুনি বিশোয়াস কোরেন ? ভূত উত কুছু আছে না কি ভাজারি বাবু ? কর্পরেসান থিকে একটু ঝামেলা হচ্ছে তো সে হামি বুঝে নেবে। টেনিদা ওর নামের এরকম দুরবস্থায় বিপুল চটল। কিন্তু মুখে কিছু বলছেনা। ঠিক এই মোক্ষম সময়ে ওপরের বারান্দা থেকে চাটুজ্যে গিন্নী এক বালতি জল ফেলল। গরমে জলে ভিজতে মন্দ লাগলনা। আর এই ফাঁকে টেনিদার উদ্দেশ্য সিদ্ধ হলো। ঝুনঝুনওলা কিন্তু খুব একটা কাবু হলেননা। বললেন - হামি পান্ডিত কে লিয়ে আসব। পূজা উজা দিতে হোবে। হাবান করাইতে হোবে। বাস। ঔর কি। ভদ্রলোক ফাইন ধুতি পরে আছেন। পা গুটিয়ে বাবু হয়ে গুছিয়ে বসলেন। যাবার কোনো নামই করছেন না। বেগতিক দেখে আমি বললাম রবিবার দেখে আসুন। আমি কাকাবাবুর সাথে কথা বলিয়ে দেব। আজ তো কেউ নেই। টেনিদা ওর কনুই দিয়ে এক গোত্তা মারল আমার পাজরে। খুব জোরে লাগলেও আমি পাত্তা না দিয়্রে ওকে বললাম - আরে বাবা এখনকার মত তো রেহাই পাই। এঁকে ভাগ দিতে হবে বলে টেনিদা আজ কিছু খাওয়ার ও নাম করছেনা। ভদ্রলোক গুনগুন করে ভজন গাইছেন। মনে হল খুব ধার্মিক গোছের।
হঠাত একটা লালবাতি ওয়ালা পুলিশের গাড়ি এসে রকের সামনে থামল। টেনিদার তো ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেছে। ও যে কিরকম সাহসী সে তো সব্বাই জানে। ঝুনঝুনওলা কিন্তু এক ভাবে বসে। চোখ বন্ধ করে গেয়ে চলেছেন। গাড়ির দরজা খুলে ততক্ষণে এক অফিসার , খুব স্মার্ট একেবারে ঝকঝকে যাকে বলে , সামনে এসে দাঁড়ালেন। বিশুদ্ধ হিন্দিতে বললেন বাবুজি ঘর চলিয়ে। বিনয়ের সাথে অনুযোগ করলেন যে কেন উনি এভাবে একা একা এসেছেন। তাও এতদুরে। আমরা তো অবাক। টেনিদা নাক টাক চুলকে বলতে চাইল যে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ভুমিকা নেই। আমরাও জানিনা যে উনি বাড়িটা কেন কিনতে চান। বিশেষ করে ওঁর ছেলে যখন এত বড় একজন পুলিশ অফিসার। আমি হাসি চাপলাম। পুলিশের যেন ঘর বাড়ি লাগেনা। অফিসার আরো বিনয়ের সঙ্গে আমাদের ধন্যবাদ জানালেন ওঁর বাবাকে বসিয়ে রাখার জন্যে। বললেন পিতাজি কি কারণে একটু মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ডাক্তার হাসপাতালে দিতে বলেছিলেন কিন্তু পিতাজিকে এ অবস্থায় চোখের বাইরে করতে পারবেননা।
টেনিদা শেষবারের মত বলতে চাইল - উনি যে বাড়িটা কিনবেন বলছিলেন ? অফিসার হেসে বললেন ওই তো ওঁর অসুবিধে। অসুখ। তারপর হাতজোড় করে বিদায় চাইলেন। ঝুনঝুনওলা কিন্তু খুব একটা রাজি ছিলেননা। সঙ্গের লোকেরা অনুনয় বিনয় করে নিয়ে গেলেন।
টেনিদা উদাস সুরে বলল - দেখ কি সুসন্তান। কেমন বুঝিয়ে নিয়ে গেলেন। আমি নিঃশাস ফেলে বললাম - যাক আর একজন প্রোমোটার কে সরানো গেল। তারপর দুজনে রোযাকটার গায়ে হাত বুলিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।
ইচ্ছে
এই কে আছিস আমার মনটাকে একটু তুলে রাখ l দেখিস যেন লকারে চাবিটা ঠিক করে দিস l বড্ড দামী রে l হারালে বা হাপিস হলে খুব প্রবলেম l
এইরকম কথা শুনতে শুনতে আজকাল বিরক্তি ধরে গেছে l মুরোদ নেই যে লকারে রাখার মত সত্যি কিছু আনতে পারে শুধু কতগুলো কথার কচকচি l
তবুও গিন্নী আঁচলের চাবির গোছাটা ঝনঝন করে মাটিতে ফেললেন l তা থেকে বেছে বেছে সবচেয়ে নকশা কাটা চাবিটা বার করলেন l আর তারপর দেরাজের গোপন কুঠরীতে চাবি ঘোরালেন l কত্তা আড়চোখে মৃদু হাসিতে মুখ ভরিয়ে দেখে নিলেন l
আড় ভেঙ্গে বললেন - গিন্নী কত জমল? গিন্নী বাঁকা মুখে ঘাড় বেঁকিয়ে বললেন - রাজার ঐশ্বর্য l এবার কি দয়া করে নিত্যকর্ম করা হবে ?
এইরকম কথা শুনতে শুনতে আজকাল বিরক্তি ধরে গেছে l মুরোদ নেই যে লকারে রাখার মত সত্যি কিছু আনতে পারে শুধু কতগুলো কথার কচকচি l
তবুও গিন্নী আঁচলের চাবির গোছাটা ঝনঝন করে মাটিতে ফেললেন l তা থেকে বেছে বেছে সবচেয়ে নকশা কাটা চাবিটা বার করলেন l আর তারপর দেরাজের গোপন কুঠরীতে চাবি ঘোরালেন l কত্তা আড়চোখে মৃদু হাসিতে মুখ ভরিয়ে দেখে নিলেন l
আড় ভেঙ্গে বললেন - গিন্নী কত জমল? গিন্নী বাঁকা মুখে ঘাড় বেঁকিয়ে বললেন - রাজার ঐশ্বর্য l এবার কি দয়া করে নিত্যকর্ম করা হবে ?
নববর্ষ
শিপ্রার তীর হতে বসন্তের মলয়ানিল অন্তর্হিত । এখন প্রখর গ্রীষ্মের উত্তপ্ত হাওয়া নদীর জলীয় বাষ্পে আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে । মহাকবি আজ মালিনীর গাঁথা বেলির মালাটি কণ্ঠে পরেন নি । বেশভূষা অসহ্য লাগছে । মালাটিতে জল ছিটিয়ে সামনে রাখা আছে । মাঝে মাঝে তা থেকে মৃদু সৌরভ উঠছে । কবি আজ একটু আনমনা । নবরত্ন সভা গ্রীষ্ম কালীন অবসর ভোগ করছে । কিন্ত রানী ভানুমতীর আর্জি যে আর একখানি কুমারসম্ভব গোছের কাব্য নিতান্তপক্ষে না লিখলে তাঁরও প্রকৃতির এই চরম অবস্থা সহ্যের অতীত হচ্ছে ।
কালিদাস চেয়ে আছেন শুন্য চোখে । এমন সময়ে দেখলেন কুটীরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেন ভজহরি মুখোপাধ্যায় । তিনি বিলক্ষন চেনেন এঁকে । একখানি আসন এগিয়ে দিলেন বটে তবে বললেন – এত তাপে মৃত্তিকাই সর্ব শ্রেষ্ঠ আসন । তারপর প্রশ্ন করলেন – অধম কে কি মনে করে ? ভজহরি মুখার্জী ওরফে টেনিদা বলল –এবার স্যর খুব ঝামেলা ৷ নববর্ষের অনুস্ঠানের দফারফা ৷ শিল্পীদের কুলফি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা ৷ এত চার্জ যোগাড় করা অসম্ভব ৷ একটা উপায় যদি বলেন তাই এলাম ৷ কবি হেসে ফেললেন ৷বললেন – এই জন্যে টাইম ট্র্যাভেল করতে হল ? আমার কথা মনে হওয়ার কারণ ? টেনিদা বলল – খুব সোজা ৷ রানীর খেয়াল যিনি মেটাতে পারেন তিনিই উপযুক্ত এ আলোচনার ৷ কিছুক্ষণ নীরব থেকে কবি বললেন – তোমরা যে একটুও পাল্টাতে পারোনা ৷ বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ৷ তারপর বললেন – নববর্ষ কি নববর্ষার দিনটিতে করা অসম্ভব ? তাহলেই তো গোল মেটে ৷ টেনিদা চীৎকার করে উঠল – ডি লা গ্র্যান্ডি মেফিস্টোফিলিস । কালিদাস বললেন এ কি ভাষা ? টেনিদা বলল ইটি আপনার নতুন কাব্যের নাম ৷ আপনার জন্য এটুকু তো করতেই পারি ।
ইকেবানা
দুঃখটাকে ওই নতুন কেনা নীল চীনের ফুলদানিতে রাখো । চারপাশে সবুজ অভিমানের পাতাবাহার সাজাও । দু একটা রাগ লাল গোলাপের মত গুঁজে দিও । আর হ্যাঁ, ঈর্ষার দর্শক কে ডেকে এক গেলাস মন কেমন সরবত দিও । ওর ভালো লাগবে । দিনের শেষে দেখবে ফাঁকা ঘরে কেমন একপা একপা করে খুশী ঢুকবে চুপিচুপি । তবে এই যা কষ্ট, যে, নীল চীনের ফুলদানিতে ততক্ষনে দুঃখ নেতিয়ে পরবে । রাগের গোলাপের রঙ ও আর ততো গাড় থাকবেনা । তবে সবুজ অভিমানের পাতাবাহার তখনও বেশ স্নিগ্ধ থাকবে । মিলিয়ে নিও ।
দুঃখটাকে ওই নতুন কেনা নীল চীনের ফুলদানিতে রাখো । চারপাশে সবুজ অভিমানের পাতাবাহার সাজাও । দু একটা রাগ লাল গোলাপের মত গুঁজে দিও । আর হ্যাঁ, ঈর্ষার দর্শক কে ডেকে এক গেলাস মন কেমন সরবত দিও । ওর ভালো লাগবে । দিনের শেষে দেখবে ফাঁকা ঘরে কেমন একপা একপা করে খুশী ঢুকবে চুপিচুপি । তবে এই যা কষ্ট, যে, নীল চীনের ফুলদানিতে ততক্ষনে দুঃখ নেতিয়ে পরবে । রাগের গোলাপের রঙ ও আর ততো গাড় থাকবেনা । তবে সবুজ অভিমানের পাতাবাহার তখনও বেশ স্নিগ্ধ থাকবে । মিলিয়ে নিও ।
সত্যাসত্য
রবিবারের সকাল । ফেলুদার প্রাতঃকালীন
ব্যায়াম ও শরীর চর্চা শেষ । এমনিতে সে আগের মতই ফিট । শরীর আর মন দুয়েতেই । তবে
কাজকর্মে একটু ভাঁটা । তাতে অবিশ্যি তার কোনও হেলদোল নেই । তার মতে সব কিছুর পেছনে
একটা কারণ আছে । এটাকে cosmic law বলে
। এখন হল নিজের জ্ঞানগম্যি বাড়ানর সুযোগ । সে তাই সময় পেলেই ইন্টারনেট এ ব্যাস্ত ।
আমার এর ফলে একটু GK
আর Current affairs এর
জ্ঞান বাড়ছে । আজ সকালে ফেলুদা তার পূর্বে ব্যাবহৃত যন্ত্র পাতি গুলো
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছিল । ঠিক সাড়ে নটার সময়ে বলল তোপসে একজন নিপাট বাঙ্গালী
ভদ্রলোক আসবেন । মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই । এ ঘরে আনিস । খুব পরিচিত ও কাছের লোক
ছাড়া ফেলুদা তার study তে বাইরের কাউকে allow করেনা । তাই একটু অবাক হলাম । মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই প্রায় ফেলুদারই
সমবয়েসী একটি লোক এলেন । পরনে ধুতি ও পাঞ্জাবী । চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা ।
দৃষ্টি খুব উজ্জ্বল । বললেন – প্রদোষ বাবুর সাথে দেখা হওয়ার কথা আছে । নিশ্চয়ই !
বলে ভেতরে নিয়ে গেলাম । ফেলুদা তখন বাইনকুলারটা মুছছিল । ওঁকে দেখেই উঠে দাঁড়াল ।
সাদরে বসাল । আমি বহুদিন পর একটু কৌতুহলাক্রান্ত হয়ে পড়লাম । কোনের সোফাটায় বসে
পড়লাম । জানা গেল ইনি ব্যোমকেশ বক্সী । সত্যান্বেষী । দুজনের যে কথা হল সেটা আমি
হুবহু তুলে দিচ্ছি । পাঠকের বিশ্লেষণ করতে সুবিধে হবে । বুদ্ধির ধার বাড়বে ।
ফেলুদা – বুঝতে পারছি যে
আপনি একটু অসচ্ছল হয়ে পড়েছেন ।
ব্যোমকেশ বাবু – কি করে
বুঝলেন ?
ফেলুদা – দেখুন আপনার বন্ধু
অজিতের সাথে পাব্লিশিং এর ব্যাবসাটা ভালো চলার কথা নয় । একে আজকাল বইপত্র পড়ার চল
কম তার ওপরে বাংলা সাহিত্যের তো নাভিশ্বাস
। লেখক কই ? আপনারা তো মেইনলি নভেল ধরনের বই ই ছাপতেন
ব্যোমকেশ বাবু - কথাটা অস্বীকার করছিনা তবে জমা টাকায় এখনও হাত
পড়েনি ।
ফেলুদা – ওটা অবিশ্যি আপনার
personal matter. লালমোহন বাবু ও এখন লেখা
থেকে অবসর নিয়েছেন ।
ব্যোমকেশ বাবু ( একটু হেসে
) – সে আপনার কেস কমেছে বলে । ওনার প্রখর রুদ্র আপনি ছাড়া দাঁড় করায় কে ! কিন্তু
মশায় আপনি একটুও কাতর নন ।
ফেলুদা ( প্রশংসায় একটু
লাজুক ভাব করে ) – সে আপনার মত সত্যানুরাগী নই বলে ।
ব্যোমকেশ বাবু – মানে ?
ফেলুদা – মানে খুব সোজা ।
ঘরে সত্যবতী নেই । আমি ব্যাচিলর । যাক গে রহস্য ছেড়ে আসুন কাজের কথায় আসা যাক ।
এখন ক্রাইম টাইম গুলো কেউ আর লুকিয়ে করেনা । সব বুক বাজিয়ে দিনের আলোয় করে । তাই
আপনার আমার এমন বেকার অবস্থা । তবে alternative profession নিয়ে
একটু ভেবেছি । আলোচনা করা যাক । দেখুন এখন আর কেউ personally appoint করবেনা । এখন collective client সব । ধরুন আমরা
দুজনে মিলে এমন কিছু তথ্য জোগাড় করলাম যেটা বাজারে ছেড়ে একটি পয়সাও রোজগার হবেনা কিন্তু ওই তথ্যই কিছু প্রভাবশালী লোকের রাতের
ঘুম কেড়ে নিতে পারে । বুঝলেন ?
ব্যোমকেশ বাবু – এগিয়ে যান
। পরের পাতায় ।
ফেলুদা – কাজ টা হল কোনও
ভাবে এঁদের কানে আমাদের তথ্য সংগ্রহের খবরটা দিতে হবে । ব্যাস কেল্লা ফতে ।
ব্যোমকেশ বাবু – একটু
অনৈতিক হবেনা ?
ফেলুদা – আলিসাহেবের সেই
পারির রেস্তোরাঁয় ফ্রেঞ্চ সাংবাদিকের সাথে মোলাকাত মনে আছে তো ? না-লিখিয়ে
সাংবাদিক ? nothing is wrong in love and war. খবর না
ছাপানর জন্যে পকেট ভর্তি ।
ব্যোমকেশ বাবু – আপনি তো
ধুরন্ধর লোক মশায় !
তত্বকথা
চাটুজ্জেদের রোয়াক আজ সকাল থেকেই সরগরম
l হাবুল
সেন খাস ঢাকাই ভাষায় আসন্ন ছুটি নিয়ে মতামত দিচ্ছিল l ভোটের
জন্যে একটা ছুটি ছুটি ভাব তো আকাশে বাতাসে ভাসছে l সে বলছিল - এই
যে এক খান আস্ত ছুটি, কুন কাম নাই , সুদ্দু সারাদিন ধইরা ল্যদ খামু আর সুখাদ্য খামু, এইডাই
হইল গিয়া আসল গণতন্ত্র l টেনিদা মুখখানা একেবারে জলদগম্ভীর করে বলল - হাবলা তোর সারাদিন
কেবল খাই খাই l একটু এগিয়ে ভাবতে শেখ l ভাবনায় একটু পরিবর্তন আন l টেনিদার
এই দার্শনিক ব্যাপার দেখে আমার তো পিলে চমকে উঠল l ক্যাবলা একটু নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে বলল - আজ মনে হচ্ছে শুধু রোল এ
হবেনা l ট্যাঁক খসবে ভাল মত l টেনিদা সঙ্গে সঙ্গে react করল l ক্যাবলা খবরদার l আর একটা বাজে
কথা বলেছিস তো l আমি বললুম তোর কান কানপুরে পাঠিয়ে দেব l টেনিদা একটা
সিনিক্ হাসি হেসে বলল - একটু পরিবর্তন আন l এক কথা বার বার
বললে public খাবেনা l হাবুল সেন বলল পোলাপানের কথা ছাড়ান দ্যও l তুমি বরং
পরিবর্তনের কথাডা কি কইতাছিলে কও l কিন্তু ভবি ভোল বার পাত্র টেনি মুকুজ্জে নয় l বিরক্ত মুখে বলল
গণতন্ত্র সাম্যবাদ এসব শুনতে খুব ভাল কিন্তু খালি পেটে কোনটাই হয়না l তখন থেকে শুধু
কুরুবকের মত বক বক করে চলেছিস l আমি দেরি না করে বললুম চল ক্যাবলা একটা চিকেন রোল আনি l টেনিদা add করল - ওটা ডবল
আন্ডা ডবল চিকেন হবে l বেদুইনের টা আনিস l পেট ভরলে টেনিদা বলল বল গণতন্ত্র কি l ক্যাবলা বলল এ ত সোজা l মানুষের জন্যে
মানুষের দ্বারা মানুষের
সরকার l টেনিদা চোখ কপালে তুলে বলল এই বুদ্ধি নিয়ে first হস l ফুহ l ওটা হল অমানুষের
দ্বারা অমানুষের জন্যে অমানুষের সরকার l তোদের ডেফিনেশনটা
পুরনো l ওটার পরিবর্তন হয়েছে l আমরা উঠে
দাঁড়িয়ে পড়তেই টেনিদা বলল আ মোল চল্লি কোথায় ? সাম্যবাদ টা
শুনে যা l বললুম বলে ফেল l টেনিদা বলল তবে শোন, সাম্যবাদ হল সবাই কে সমান চোখে দেখা l তাই বন্ধু শত্রু
সব সমান l শত্রুর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দাও l আখেরে লাভ হবে l গণতান্ত্রিক
সাম্যবাদী সরকার l বুঝলি ? নাকি এখনো পরিবর্তন এলোনা ?
কলকাতা
বুক চেপে সোজা হাঁটতে চেষ্টা করছিলেন মিস্টার জালান l কিন্তু পা দুটো খুঁজেই পাচ্ছেন না ! পাশে মানে গাড়িতে বসে ছিলেন শ্রীমতি l তিনি গেলেন কোথায় ? সামনে ও চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু ভাঙ্গা তোবরান কংক্রিট ও গাড়ি ঘোড়া l কিছু কাতরানি শোনা যাচ্ছে কিন্তু উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না l যাক গে এসব আর ভাবতে পারছেন না মিস্টার জালান l আস্তে আস্তে স্মৃতি হারাচ্ছেন কি ? কোথায় যাচ্ছিলেন কেন যাচ্ছিলেন এসব তো ছোট খাটো ব্যপার l তিনি আরো বড় বড় তথ্য ভুলছিলেন l অবশেষে নিজের নাম ঠিকানা ও ভুললেন l বিরাট কংক্রিটের টুকরোটার তলায় বসে বসে ভাবছিলেন কি ভাবে উদ্ধার হবেন l কিন্তু কি আশ্চর্য যে হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে বেরিয়ে এলেন l আর তখনই এক সাহেব এসে দাঁড়াল সামনে l বলল বাবু সূতার হাটটা বসত সেই জায়গা টা খুঁজে পেলামনা l একটু বলে দিতে পার ? এমন নিরিবিলি জায়গাটার কি হাল করেছে ! নেটিভ গুলো গেল কোথায় ? মিস্টার জালান খুব জোরে হাসতে চাইলেন l বলতে চাইলেন তুমি কে হে বাপু ? সাহেব চোখের পাঁশনে টাকে ঠিক করে চোখ তুলে বলল আমি তোমার প্রতিবেশী বাবু l নাম জব চার্নক
Subscribe to:
Comments (Atom)
-
রাতের রেলগাড়ি ১ ভোরের কুয়াশা ভেদ করে ছুটে চলেছে মেল ট্রেন । আবছা নীল আলোয় ভেসে উঠছে চরাচর । দূরের খেজুর গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামছে । ...
-
অনূদিত অণুগল্প ইচ্ছে হলো পড়াই 😊 তিনটি অণুগল্প দিলাম। জাপানের সাহিত্য ও শিল্প খুব সূক্ষ্ম এবং মেধা ও মননের ওপরে দাবি রাখে। নিছক বিনোদনে...