শ্বাশ্বত

সেই কোন ভোরে উঠে দিন শুরু করেছি l  এতটুকু বিশ্রাম নেই l  প্রতীক থাকেনা বলে একা হাতে সব দেখতে হয় l  এই সময়ে ক্লিনিক থেকে জরুরি ফোন l  মাদাম যদি একটু আসতে পারেন প্লিস ! খুব বিপদ হয়েছে l নিস্পৃহ যে থাকতে পারিনা সেটা আমার ই স্বভাবের দোষ l বললাম সজল দা কি হল ? উত্তর এল sir এর শরীর খারাপ l  বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে মাথা ঘুরে গেছে l  এই গরম l  হতেই পারে l  জিজ্ঞেস করলাম patient কজন ? বলল সাত l  ঘেমে গেলাম শুনে l  আটটা নাগাদ ও যদি পৌঁছে যাই দশ থেকে সাড়ে দশটা বাজবে l  তাড়াতাড়ি করে স্নানে চলে গেলাম l  বাথরুম থেকেই শুনলাম বুবুনের ঠাকুমা বলছেন আজ যে বীথির (ওঁর বড় মেয়ে ) আসার কথা l  শুচি কি রান্না হবে ? বললাম মা আমি বুবুন কে স্কুলে দিয়ে একটু ক্লিনিকে যাব l  ফিরে এসে দেখছি l  মা বললেন মায়া (রাঁধুনি ) আসবেনা l  চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বললাম এসে সব ব্যবস্থা করছি l  মার গম্ভীর  গলা পেলাম l  কি করে তুমি সব ফেলে নাচতে নাচতে সাত সকালে চললে দেশসেবা করতে, ভেবে পাইনা l  সংসারের ঝক্কি আমি আর কেন পোহাব বাপু l  ভাবছি বলি যে ঠিক নাচতে যাচ্ছি না, কিন্তু সময়াভাব l  তত ক্ষণে বুবুন টানাটানি শুরু করে দিয়েছে l  মাম দেরি হচ্ছে চল l  স্কুটিতে তাড়াহুড়ো করে নিজের জলের বোতল নিতে ভুল করলাম l  কিছু করার নেই l  বুবুন কে স্কুলের গেটে নামিয়ে এলাম ক্লিনিকে l চেম্বারে ঢুকে বসে জীরোনোর উপায় নেই l  সময় কম l  বললাম patient পাঠান l  সব একরকম হচ্ছিল, শেষে একটি মেয়ে এল l  সাথে তার স্বামী l  অবাক হয়ে দেখলাম লোকটি ওই সাত সকালে আকন্ঠ  মদ খেয়ে এসেছে l  মেয়েটি লাজুক হাসি মুখে সামলাতে চেষ্টা করছে l  কিন্তু লোকটি তাকে কথা বলতেই দিচ্ছেনা l  যতবার সে বলতে চাইছে তার অসুবিধে কোথায়, লোকটি ততবারই তাকে থামিয়ে নিজে কথা বলছে l  মেয়েটির চোখে কেমন ভয়ের ছায়া l  একবার ভাবলাম বলি patient দেখবোনা l  সময় চলে যাচ্ছিল l  তারপর মনে হল মেয়েটির সুরাহা হবেনা l  দক্ষিণ দেশীয় l  কথা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছিল l  লোকটি ইংরিজি জানলেও মেয়েটি স্বচ্ছন্দ নয় l  শেষমেষ লোকটিকে রুগীকে পরীক্ষা করব বলে ঘরের বাইরে পাঠালাম l মেয়েটির মুখ্য অসুবিধে তার এখনো বাচ্চা আসেনি l  তাকে দেখতে দেখতেই প্রতীকের ফোন এল l  শুচি তুমি এত সকালে চেম্বারে কেন ? দিদিরা আসছে l  মা একা l  একটা কাণ্ড জ্ঞান নেই ! অদ্ভুত !! আগে বাড়ি যাও l   মা নিজে নিজে কিছু করতে গিয়ে কিছু হলে ? উহ কি মুস্কিল ! প্রতীকের গলাটা ফোন পেরিয়ে ঘরের মধ্যেও শোনা যাচ্ছিল l  আমি বলতে চাইলাম চিন্তা কোর না l  কিন্তু প্রতীক তখনও সমানে বলে চলেছে l  মেয়েটি অবাক হয়ে আমাকে দেখছিল l  খুব অস্বস্তি হচ্ছিল l  আমি মাথা নিচু করে প্রেসক্রিপশন লিখতে লিখতেই প্রশ্ন টা ভেসে এল l  husband ?

No comments:

Post a Comment