নববর্ষ
শিপ্রার তীর হতে বসন্তের মলয়ানিল অন্তর্হিত । এখন প্রখর গ্রীষ্মের উত্তপ্ত হাওয়া নদীর জলীয় বাষ্পে আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে । মহাকবি আজ মালিনীর গাঁথা বেলির মালাটি কণ্ঠে পরেন নি । বেশভূষা অসহ্য লাগছে । মালাটিতে জল ছিটিয়ে সামনে রাখা আছে । মাঝে মাঝে তা থেকে মৃদু সৌরভ উঠছে । কবি আজ একটু আনমনা । নবরত্ন সভা গ্রীষ্ম কালীন অবসর ভোগ করছে । কিন্ত রানী ভানুমতীর আর্জি যে আর একখানি কুমারসম্ভব গোছের কাব্য নিতান্তপক্ষে না লিখলে তাঁরও প্রকৃতির এই চরম অবস্থা সহ্যের অতীত হচ্ছে ।
কালিদাস চেয়ে আছেন শুন্য চোখে । এমন সময়ে দেখলেন কুটীরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেন ভজহরি মুখোপাধ্যায় । তিনি বিলক্ষন চেনেন এঁকে । একখানি আসন এগিয়ে দিলেন বটে তবে বললেন – এত তাপে মৃত্তিকাই সর্ব শ্রেষ্ঠ আসন । তারপর প্রশ্ন করলেন – অধম কে কি মনে করে ? ভজহরি মুখার্জী ওরফে টেনিদা বলল –এবার স্যর খুব ঝামেলা ৷ নববর্ষের অনুস্ঠানের দফারফা ৷ শিল্পীদের কুলফি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছেনা ৷ এত চার্জ যোগাড় করা অসম্ভব ৷ একটা উপায় যদি বলেন তাই এলাম ৷ কবি হেসে ফেললেন ৷বললেন – এই জন্যে টাইম ট্র্যাভেল করতে হল ? আমার কথা মনে হওয়ার কারণ ? টেনিদা বলল – খুব সোজা ৷ রানীর খেয়াল যিনি মেটাতে পারেন তিনিই উপযুক্ত এ আলোচনার ৷ কিছুক্ষণ নীরব থেকে কবি বললেন – তোমরা যে একটুও পাল্টাতে পারোনা ৷ বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ৷ তারপর বললেন – নববর্ষ কি নববর্ষার দিনটিতে করা অসম্ভব ? তাহলেই তো গোল মেটে ৷ টেনিদা চীৎকার করে উঠল – ডি লা গ্র্যান্ডি মেফিস্টোফিলিস । কালিদাস বললেন এ কি ভাষা ? টেনিদা বলল ইটি আপনার নতুন কাব্যের নাম ৷ আপনার জন্য এটুকু তো করতেই পারি ।
😊
ReplyDelete