মাথাটা তুলতে পারছিল না শিবু l কান্না টান্না তো কখন থেমে গেছে, বরং এক ধরনের বিমূঢ় অবস্থা চেপে বসেছে l মাথা ভার l কোনও চিন্তা আসছেনা l শুধু থেকে থেকে শূন্য হয়ে যাচ্ছে মন l
তাড়া দিল মালতী l হেই উঠ l তুর বৌ টা তো মানুস ছিল না l এত্ত করেও বুঝার পারলি না l শিবুর কোনও প্রতিক্রিয়া হলোনা l বসেই রইল চুপ করে l
________________________
কাল সন্ধ্যের পর জঙ্গলের গভীর ঝোপে সীমা আবার গিয়েছিল l সেখানে তাকে দেখতে পেয়েছিল শেষ বিকেলে কাঠ কুড়োতে যাওয়া কটি মেয়ে বৌ l দূর থেকে দেখেছিল সীমা সেখানে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে, দুহাত মাথার ওপর তুলে মাঝে মাঝে ঊন্মত্তের মত চীত্কার করছে l তারা শিউরে উঠছিল l নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল - মেইযা টার মাতথ টো ইক্কে বারে খারাপ হইচে l পুত টা রে হারায়ে আর বশে লাই রে l বেশি রাতে শিবু খুঁজতে খুঁজতে সীমাকে দেখতে পায় l জোর করে ঘরে আনে l
সকাল থেকে বড় শোরগোল l ঠিক সীমার ছেলেটার মতই গাঁয়ের আর ও শিশু জ্বরে মরেছে l হঠাত জ্বর l কোথাও কিছু নেই ধুম জ্বর l আর তাইতে ই মরণ l সীমা ঘরে শুয়ে ছিল l শুনতে পেল কুমারি টার মেইযা টাও মরেছে l আরে কি হলো - বলে সে আবার কান্না জুড়ে দিল l শিবু সেই সময়ে জঙ্গলে গেছিল l সমস্ত গাঁ হঠাত ভিড় করল ওর ঘরের আঙিনায় l
________________________
কিছু আগে সীমা মরে গিয়েছে l গাঁয়ের সবাই এক বাক্যে বিচার দিয়ে দিল l সীমা আসলে ডাইনী l রাত বিরেতে জঙ্গলে মন্তর পড়ে, তন্তর করে l নিজের পুত টা কেও খেয়েছে l ওর নিঃশ্বাসে গাঁয়ে আর কোনও বাচ্ছা বাঁচবে না l সীমাকে ওর আঙিনায় বুড়ো বট গাছটা তে বেঁধে গাঁয়ের সবাই মারধোর করেছে l যখন প্রায় আধমরা তখন দিয়েছে গায়ে আগুন লাগিয়ে l শিবু যখন ফিরেছে তখন সীমা আর বেঁচে নেই l
_______________________
শিবু যখন মোড়লের কাছে জানতে চাইল যে কি হল, কেন সীমা ডাইনী, মোড়ল বলল - তু জানিস নি ! উ ডাইনী ছিল ! জঙ্গলে ধুল কুড়াইছিল সকল কে মারবে বলে ! এত্ত গুলান প্রাণ !! শিবু মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়ে রইল l কি করে বলবে যে ওই ধুলো টুকু সেই গাছতলার যেখানে ওদের ছেলেটা কে শুইয়ে এসেছে আজ মাত্র পাঁচ দিন আগে l
No comments:
Post a Comment