আকাশটা



হাতে তোলা সদ্য ফোটা যুঁই ফুল গুলো নিয়ে একমনে প্রাণ ভরে সুবাস নিচ্ছিল তিতির।  আর ভাবছিল বেঁচে থাকাটা যদি শুধুই গন্ধ নির্ভর হত ! খাওয়ার ঝামেলা থেকে রেহাই।  কোনো কঠিন কিছুই থাকতনা।  স্রেফ হাওয়ায়  জীবন। বেশ হত কিন্তু।  তবে ভাববার বেশী সময় পাওয়া গেলনা।  হাতের ফোনে সমানে ভেসে উঠছে দরকারী কথা।  আজ নতুন ল্যাবে যেতে হবে।  কলেজে নতুন একজন প্রফেসর এসেছেন। তিতির শুনেছে তিনি নাকি একজন জাদুকর।  সেই থেকে মেলবার তাগিদটা বড় বেশী হয়ে পড়েছে।   তিনি আসার আগেই তাঁর  জন্যে ল্যাব তৈরী হয়েছে।  এ পর্যন্ত সেখানে সব্বার প্রবেশ নিষেধ ছিল।  আজ সেখানে গুরু শিষ্যের সাক্ষাত।  বাকী সহপাঠীরা তার মত কেউ এত উৎসাহী নয়।  কিন্তু তিতির  ম্যাজিক দেখবে এই আনন্দে আজই যাবে ঠিক করেছে।  অন্য স্যার যাঁরা আছেন তারাও বলেছিলেন - কি হবে ? পরে যাও।  ওঁকে একটু এখানকার ব্যবস্থার সঙ্গে সড়গড় হতে দাও।  কিন্তু তিতির মনে মনে জানে সে যাবেই।  ল্যাব এসিস্টেন্ট সনাতনদা কে তাই বলে রেখেছে যে সে আজ যাবেই।
                 বিরাট কাচের সুইং ডোরটা ঠেলে তিতির ঢুকল সদ্য বানানো এই হলঘর টায়।  বিল্ডিং এর এক্কেবারে ওপর তলায় বানানো হয়েছে এটা।  ভেতরে ঢুকে দেখল প্রচুর যন্ত্র পাতি, সাজ সরঞ্জাম।  লম্বা লম্বা টেবিলের ওপর সাজানো।  কখনো ল্যাবরেটরিতে ঢুকে এভাবে দেখার সুযোগ পায়নি সে।  ঘুরে ঘুরে দেখছিল ঠিক সেই সময়ে কারো গলা শুনতে  পেল    - তাহলে তুমিই তিতির ? তিতির এরকম চমকান কখনো চমকায়নি।  হঠাৎ কখন এসেছেন ইনি ? এই তবে নতুন স্যার?  সে একটু সামলে নিয়ে বলল - হুঁ আমিই তিতির।  স্যার বললেন সনাতন বলেছে যে আজ একজন ছাত্রী আসবে ল্যাব দেখতে।  তার নাম তিতির।  একটু মুচকি হেসে বললেন - এর মধ্যে কিন্তু কোনো ম্যাজিক নেই।  তা তুমি ও আজ এখানে প্রথম আর আমিও।  চল আজ একটু নেড়েচেড়ে দেখা যাক।
                   দুজনে হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন কাচের বিকার টিউব ফ্লাস্ক এসব দেখছিল।  স্যার বললেন - তিতির চল একটু আকাশ তৈরী করি।  তিতিরের মুখটা হাঁ হয়ে গেছে।  আকাশ ?  আকাশ  তৈরী করা যায় নাকি? স্যার হাসলেন।  করা যায় বইকী।  স্যার একটা টেস্ট টিউব নিলেন হাতে।  নিজের এপ্রনের পকেট থেকে মোড়ক বার করলেন। আর তারপর সেই মোড়ক খুলে একটু নীল রঙের  পাউডার নিয়ে  টেস্ট টিউবটায় ফেললেন।  টিউব থেকে নীল নীল ধোঁয়া বেরোতে লাগল।  আস্তে আস্তে সেটা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পরল।  তিতির অবাক হয়ে দেখল ঘরের দেওয়াল গুলো যেন কি করে মিলিয়ে যাচ্ছে।  ভয়ে সে চোখ বন্ধ করে ফেলল। স্যার বললেন - চোখ খোলো তিতির।  দেখ আকাশ তৈরী।  তোমার যুঁই ফুল গুলো ছড়িয়ে দাও।  তিতির দুহাত ছড়িয়ে দিল।  আস্তে আস্তে ভয়টা  হারিয়ে গেল।  তিতির দেখল
শরীরটা  কি হালকা ! যেন সে কিছুতেই আটকে নেই।   স্যার বললেন - ম্যাজিক তিতির।   তুমি ল্যাব এ ম্যাজিক দেখতে এসেছিলে তাই তোমাকে ম্যাজিক দেখালাম।
                    সেই থেকে তিতিরের আর কিছুতেই ভয় হয়না । স্যার তাকে আকাশ তৈরি করতে শিখিয়ে দিয়েছেন যে !
               

No comments:

Post a Comment