উঁহু এ হাতে নয়, ডান হাতটায়। মীরা দেখালেন বিভূকে। বিভূ আসতে আসতে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল মীরার হাতটায়। বড্ড ব্যথা? দিদি? মীরার মায়া হল। মাথা নাড়লেন। না, খুব নয়, ওই অল্প অল্প। সামান্য হাসলেন। কি করে বলবেন বছর পাঁচেকের নাতি কে যে ব্যথায় প্রাণ চলে যাবার মত। হাতটা কনুই থেকে লগবগ করে ঝুলছে। এখন তো কেউ নেই বাড়িতে। যত কষ্টই হোক তবু অন্তরে ঘা এখনো পরেনি। এরপর বিভুর বাপ মা এলে কষ্টের শেষ হবে একেবারে। বিভু তখনও ছলছলে চোখে মীরার দিকে তাকিয়েছিল। দিদি মাম কে বাবিকে বলবেনা তো আমি তোমায় ফেলে দিয়েছি? ওর চোখে খুব ভয় । না না , সোনা, তাই কি বলতে পারি? তুমি কি ইচ্ছে করে ফেলেছ? আমি তো নিজেই পড়ে গেছি। বিভু একটু আশ্বস্ত হয়ে মীরার কোলের কাছে ঘেঁসে এল। দিদি ঘরে শুয়ে থাকবে? চল যাই। মীরা উঠে পরলেন।
বিকেল পর্যন্ত যন্ত্রণা সইতে সইতে চেতনা হারিয়ে ফেললেন মীরা। বিভুর মা বাবা বাড়ি ফিরে অচেতন মীরাকে দেখে বিপদে পড়ল। দেখ দেখি, এই অবেলায় কোথায় ডাক্তার কোথায় কি! মা যে কি করে! বারণ করলেও শোনে না। কি করা যাবে এখন? বিভু খবর ততক্ষণে দিয়ে দিয়েছে যে দিদি পড়ে গিয়ে হাতে লেগেছে। খুব ব্যাথা। ওই ডান হাতটায় । কি করে পড়ে গেল দিদি? বিভু ভ্যা করে কেঁদে ফেলল। মা বলল, আহা, ওই একরত্তি ছেলে কি জানে? মায়েরই ত সাবধান হওয়া উচিৎ!
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার সময় বিভুর বাবা ওর মা কে বলল - ছেলেটা কে এখনই বোলো না যে মা কোমায়। খুব কান্নাকাটি করবে।
আজ দশ দিন হয়ে গেল মীরা কোমায়। ডাক্তার হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বিভু বিকেলে ঘূম থেকে ঊঠে মা কে বলল - মা দিদি কবে ফিরবে ? মা - কেন রে? দিদি যে খুব ঘুমোচ্ছে। বিভু বলল - দিদি আমার সঙ্গে আর খেলবে না? সেদিন যে খেলতে খেলতে আমি দিদি কে এক ঠেলা দিলাম আর দিদি পড়ে গেল দিদির হাতে ব্যথা লাগল, তারপর থেকেই দিদি ঘুমোচ্ছে ? মা তাড়াতাড়ি বিভুর মুখ চেপে ধরল। চুপ, একদম চুপ। বাবা যেন জানতে না পারে ।
Khub sundor Anindita.
ReplyDeleteKhub sundor Anindita.
ReplyDeleteএটা প্রমাণ করছে সংক্ষিপ্ত ঘুম আরো ভাল ছিল। টেনে লম্বা করে গল্পের মাধুর্য হারিয়েছে।
ReplyDeleteগল্পটা গোড়া থেকেই এতটা ছিল যে 😊 কোনও পরিবর্তন করিনি তো
ReplyDelete